গাজাগামী সুমুদ ফ্লোটিলা আটক ও ত্রাণবহর জব্দের ঘটনায় ইসরায়েলের সব কূটনীতিককে বহিষ্কার এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করেছে কলম্বিয়া। প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করেন। পাশাপাশি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েলপন্থী ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কলম্বিয়ার সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত করেছে।
গাজাগামী সুমুদ ফ্লোটিলায় হামলা এবং ত্রাণবহর জব্দের ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে কলম্বিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ঘোষণা দিয়েছেন—তেলআবিবের সব কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলকে বহিষ্কার করা হবে, পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কার্যকর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে।
১ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় পেত্রো জানান, ফ্লোটিলা আটক আন্তর্জাতিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনের সরাসরি লঙ্ঘন। একইসঙ্গে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদক্ষেপকে নতুন এক আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে আখ্যা দেন।
এর আগে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া দুই কলম্বিয়ান নাগরিক আটক হওয়ার পর পেত্রো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবারের ঘোষণায় সেটিকে বাতিলে রূপ দেন।
এটি প্রেসিডেন্ট পেত্রোর একমাত্র কূটনৈতিক আক্রমণ নয়। গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞে সরাসরি ভূমিকা রাখার অভিযোগে তিনি প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের দাবি তুলেছেন। এমনকি তিনি মন্ত্রিসভায় প্রশ্ন তুলেছেন—আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র কেন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করছে না।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিয়ে এবং ট্রাম্পের নীতির তীব্র সমালোচনা করে আলোচনায় আসেন পেত্রো। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তার এই বক্তব্যকে “বেপরোয়া ও উসকানিমূলক” আখ্যা দিয়ে তার ভিসা বাতিল করে। এরপর থেকেই ওয়াশিংটন-সান্তাফে দে বোগোতার সম্পর্ক অস্বাভাবিক টানাপোড়েনের মধ্যে চলছে।