Search

Saved articles

You have not yet added any article to your bookmarks!

Browse articles

হংকংয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়েছে এমিরেটসের কার্গো বিমান, নিহত ২

হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরেটসের একটি কার্গো বিমান (ফ্লাইট EK9788) রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং বিমানবন্দরের একটি টহল গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে সমুদ্রে পড়ে যায়। এতে দুইজন গ্রাউন্ড স্টাফ নিহত হন, তবে চারজন ক্রু সদস্য বেঁচে যান। হংকং বিমানবন্দরের সাম্প্রতিকতম ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলির মধ্যে একটির কারণ তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে সাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় বিমানটি বিমানবন্দরের একটি পেট্রোল গাড়ির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

সোমবার ভোর ৩:৫০ মিনিটে (রবিবার ১৯:৫০ GMT) দুবাই থেকে আগত এমিরেটস ফ্লাইট EK9788 হংকং বিমানবন্দরের উত্তর রানওয়েতে অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সীমানা প্রাচীর ভেঙে পেট্রোল গাড়িকে ধাক্কা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত সাগরে গিয়ে পড়ে।

বিমানটি ছিল একটি বোয়িং ৭৪৭-৪৮১ কার্গো বিমান, যা তুর্কি অপারেটর ACT Airlines থেকে ভাড়া নেওয়া (ওয়েট লিজ)। বিমানটিতে কোনো কার্গো ছিল না। বিমানে থাকা চারজন ক্রু সদস্য সবাই প্রাণে বেঁচে যান। তবে পেট্রোল গাড়িতে থাকা দুইজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হন।

নিহত দুইজনের বয়স ছিল ৩০ ও ৪১ বছর এবং তাঁরা যথাক্রমে ৭ এবং ১২ বছর ধরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ডুবুরিরা গাড়িটি সাগরের প্রায় পাঁচ মিটার দূরে এবং সাত মিটার গভীরে খুঁজে পান। তাদের মধ্যে একজনকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয় এবং অপরজন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, অবতরণের সময় বিমানটি কোনো বিপদ সংকেত পাঠায়নি। দুর্ঘটনার পরপরই ক্রু সদস্যরা জরুরি নির্গমন দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং দুই মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো দমকল বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। কমপক্ষে একটি জরুরি স্লাইড সফলভাবে মোতায়েন করা হয়।

দুর্ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা যায়, বোয়িং ৭৪৭ বিমানের কাঠামো দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং বড় ফাটল ও কিছু অংশ সাগরে ডুবে আছে।

হংকং পরিবহন ব্যুরো নিহতদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এমিরেটসের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, অবতরণের সময় বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে ক্রুরা নিরাপদে আছেন।

বিমানবন্দর পরিচালনা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক স্টিভেন ইয়িউ বলেন, দুর্ঘটনার সময় পেট্রোল গাড়িটি রানওয়ের বাইরে একটি নিরাপদ দূরত্বে চলছিল এবং তা কখনোই রানওয়ে অতিক্রম করেনি। তাঁর মতে, বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে সাগরের দিকে বাঁক নেয়, বেড়া ভেঙে গাড়িটিকে ধাক্কা দেয় এবং সাগরে ঠেলে দেয়।

তিনি আরও জানান, বিমানকে যথাযথ অবতরণ নির্দেশনা ও রানওয়েতে সঠিক সাইনেজ সরবরাহ করা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সাধারণত বিমান সাগরের দিকে ঘোরে না।”

হংকং এয়ার অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন অথরিটি (AAIA) ব্ল্যাক বক্স — ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার — উদ্ধারে কাজ করছে। তদন্তে আবহাওয়া, রানওয়ের অবস্থা, বিমানের যান্ত্রিক সমস্যা ও ক্রুদের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা কোনো অপরাধমূলক তদন্তের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না।

উত্তর রানওয়ে পুরো দিন বন্ধ থাকবে, তবে বাকি দুটি রানওয়ে চালু রয়েছে। সোমবারে নির্ধারিত অন্তত ১১টি কার্গো ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে।

এই দুর্ঘটনা হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিমান দুর্ঘটনা। ১৯৯৮ সালে বিমানবন্দরটি কাই টাক থেকে চেক ল্যাপ কক-এ স্থানান্তর হওয়ার পর এটি দ্বিতীয় মারাত্মক দুর্ঘটনা। এর আগে ১৯৯৯ সালের আগস্টে চায়না এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান টাইফুনের সময় অবতরণকালে দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং তিনজন নিহত হন।