একজন ফিলিস্তিনি বন্দীর উপর ইসরায়েলি সৈন্যদের নির্যাতনের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ইসরায়েলি পুলিশ প্রাক্তন মেজর জেনারেল এবং সেনা প্রসিকিউটর ইফাত তোমের-ইয়েরুশালমিকে গ্রেপ্তার করেছে। ভিডিওটি ক্ষোভের সৃষ্টি করে, যার ফলে গ্রেপ্তারের আগে তিনি পদত্যাগ করেন এবং নিখোঁজ হন। ফুটেজে দেখা যায় সৈন্যরা একজন বন্দীকে বিচ্ছিন্ন করছে এবং তাদের কর্মকাণ্ড গোপন করার সময় একটি কুকুর ব্যবহার করছে। এই গ্রেপ্তার ইসরায়েলে "রাজনৈতিক ও আইনি ঝড়" সৃষ্টি করেছে। ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সাল থেকে, ইসরায়েলি হেফাজতে কমপক্ষে ৭৫ জন ফিলিস্তিনি বন্দীর মৃত্যু হয়েছে।
ইসরায়েলি পুলিশ একজন সাবেক সামরিক প্রসিকিউটরকে আটক করেছে, যিনি ইসরায়েলি সেনাদের দ্বারা এক ফিলিস্তিনি বন্দীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগে ফাঁস হওয়া একটি ভিডিওর ঘটনায় জড়িত বলে জানা গেছে।
সাবেক ওই প্রসিকিউটরের নাম ইয়াফাত তোমের-ইয়েরুশালমি, যিনি মেজর জেনারেল পদমর্যাদা ধারণ করতেন। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সূত্র জানায়, ভিডিওটি অনলাইনে ফাঁস হওয়ার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিতর্কের পর তোমের-ইয়েরুশালমি পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে নিখোঁজ হন।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সৈন্যরা এক ফিলিস্তিনি বন্দীকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়, তাঁকে ঘিরে রাখে এবং ঘটনাস্থলে একটি কুকুরও উপস্থিত ছিল। অভিযোগ করা হয়, সৈন্যরা দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাদের কার্যকলাপ আড়াল করার চেষ্টা করে, যাতে কেউ সঠিকভাবে কী ঘটছে তা দেখতে না পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভিডিও ফাঁসের ঘটনাকে নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি “রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসরায়েলের জনমতের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত।”
অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা নউর ওদেহ জানিয়েছেন, ওই প্রসিকিউটরের গ্রেপ্তার ইসরায়েলে এক “রাজনৈতিক ও আইনি ঝড়” তৈরি করেছে। তবে তাঁর প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ মূল ঘটনাটি থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি কারাগারে অন্তত ৭৫ জন ফিলিস্তিনি বন্দী মারা গেছেন।