চীনের নতুন কে ভিসা, যাকে "চীনের এইচ-১বি" বলা হয়, বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। STEM প্রতিভা আকর্ষণ করার লক্ষ্যে এটি চালু হলেও, চাকরির বাজারের উদ্বেগ, বিদেশীদের প্রতি ভয় এবং অস্পষ্ট নিয়মের কারণে দেশে এটি তীব্র প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হচ্ছে।
চীন গত আগস্টে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য নতুন K ভিসা ঘোষণা করেছিল, কিন্তু তখন বিষয়টি তেমন দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি।
এই সপ্তাহে পরিস্থিতি বদলে যায়। ভারতীয় গণমাধ্যম ভিসাটিকে “চায়নার এইচ-১বি” বলে আখ্যা দেওয়ার পর—যা মূলত মার্কিন দক্ষ কর্মীদের জন্য চালু করা ভিসা এবং যেখানে ভারতীয়রা দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য করছে—বিষয়টি দুই দেশেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।
চীনে বর্তমানে চাকরির বাজার স্থবির এবং প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় এই ভিসা স্থানীয়দের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিদেশি স্নাতকদের সুযোগ দিলে স্থানীয় প্রতিভারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
একটি অনলাইন মন্তব্যে বলা হয়েছে, “আমাদের ইতিমধ্যেই অসংখ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী রয়েছে। তবে কেন বিদেশি স্নাতক আনছেন?” অন্য এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতা করছে, অথচ শেষে বিদেশি পাসপোর্টই সবকিছুকে হার মানায়।”
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, নীতিটি আদৌ শীর্ষ মানের প্রতিভা আকর্ষণ করতে পারবে কিনা, কারণ ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং চীনের কঠোর রাজনৈতিক পরিবেশে মানিয়ে নেওয়াটা সহজ হবে না। তবে অনেক মন্তব্য ছিল বিদেশবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী, বিশেষ করে ভারতীয়দের লক্ষ্য করে।
প্রতিক্রিয়া এতটাই প্রবল হয় যে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। গ্লোবাল টাইমস এক মন্তব্যে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে এটি যেন “নতুন যুগে এক উন্মুক্ত ও আত্মবিশ্বাসী চীন” হিসেবে দেখা হয়। অপরদিকে পিপলস ডেইলি সতর্ক করেছে, K ভিসা সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা জনগণকে বিভ্রান্ত করবে।
তাহলে আসলে K ভিসা কী?
এর পূর্ণাঙ্গ কাঠামো এখনও পরিষ্কার নয়। সরকারি বর্ণনা অনুযায়ী, এটি শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং ব্যবসা সম্পর্কিত বিনিময়ের জন্য চালু করা হয়েছে। যোগ্য আবেদনকারীদের হতে হবে এমন ব্যক্তিরা, যাঁরা চীন বা বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) বিষয়ে স্নাতক বা তার বেশি ডিগ্রি অর্জন করেছেন—অথবা এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা বা গবেষণার সঙ্গে যুক্ত।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ ভিসার জন্য স্থানীয় কোনো নিয়োগকর্তার সুপারিশ প্রয়োজন হবে না। ভিসাধারীরা একাধিকবার প্রবেশ, দীর্ঘ মেয়াদী অবস্থান এবং অধিক সময়ের ভিসা বৈধতা উপভোগ করবেন।
ফলে, K ভিসা বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য চীনে প্রবেশের সত্যিকারের সুযোগ তৈরি করবে কিনা—নাকি এটি চীনের অভ্যন্তরীণ চাকরি বাজারের উদ্বেগ বাড়াবে—তা এখনো সময়ই বলে দেবে।